কমলা হীন জম্পুই
রিদ্ধিমান দাস
February 8, 2026
আমি শুনেছিলাম যে জম্পুই পাহাড় একসময় পুরোটা কমলা বাগানে ভরা ছিল। ছোটবেলা থেকে বড়দের মুখে, বইয়ে, ইন্টারনেটে সব জায়গায়ই শুনেছি “জম্পুই মানেই কমলা”। তাই মনে একটা ছবি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। পাহাড় জুড়ে সবুজ গাছ আর তার মাঝে ঝুলে থাকা উজ্জ্বল কমলা রঙের ফল।
কিন্তু যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছালাম, অভিজ্ঞতাটা ছিল সত্যিই চমকপ্রদ এবং একটু কষ্টেরও।
আমি খুঁজছিলাম কমলার বাগান। খুঁজছিলাম সেই বিখ্যাত দৃশ্য, যেটার কথা এতদিন ধরে শুনে এসেছি। কিন্তু চারদিকে তাকিয়ে যা দেখলাম, তা আমার কল্পনার সঙ্গে একদমই মিলল না। পাহাড় আছে, প্রকৃতি আছে, ঠান্ডা হাওয়া আছে। কিন্তু কমলার বাগান প্রায় চোখেই পড়ল না। কোথাও কোথাও দু-একটা পুরনো কমলা গাছ দেখা গেল, কিন্তু সেগুলোও যেন অবহেলায় পড়ে আছে।
এই পরিবর্তনটা আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলল।
স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, একসময় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কমলা চাষ করেই জীবন চালাত। জম্পুই পাহাড়ের কমলা দূর দূরান্তে পাঠানো হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা রোগ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, আর ঠিকমতো সহায়তা না পাওয়ার কারণে কমলা চাষ ধীরে ধীরে কমে যায়। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অন্য ফসলের দিকে চলে যান।
এই জায়গাটা আমাকে একটা বড় শিক্ষা দিল।
আমরা অনেক সময় কোনো জায়গাকে তার পুরনো গল্প দিয়ে চিনি। কিন্তু বর্তমানটা নিজের চোখে না দেখলে সত্যিটা বোঝা যায় না। জম্পুই পাহাড় এখনো সুন্দর, শান্ত, আর মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। তবে তার সেই কমলার রাজত্ব আজ শুধু গল্প আর স্মৃতির মধ্যেই বেঁচে আছে।
হয়তো একদিন আবার সেই দিন ফিরে আসবে। হয়তো আবার পাহাড় জুড়ে কমলার গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আজকের জম্পুই পাহাড় আমাকে শিখিয়েছে, পরিবর্তন খুব চুপচাপ আসে, আর আমরা সেটা বুঝতে পারি অনেক দেরিতে।
নবম শ্রেণি, ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...