মেঘালয়ের পথে পথে
সৃজা সাহা
August 27, 2026
গত শীতের ছুটিতে আমি মা আর বাবা মেঘালয় ঘুরতে গিয়েছিলাম। শিলং পৌঁছাতেই ঠান্ডা হাওয়া আর মেয আপন করে নিল। সত্যিই মেঘের একটা বাড়ি।
প্রথম যাত্রা শুরু হয় শিলং থেকে। প্রথম গেলাম অর্কিড লেক এইখানের মনোরম দৃশ্য দেখে মন একদম জুড়ে গেলো। তার পর গেলাম এলিফ্যান্ট ফলস , তিন ধাপের ঝর্নার জল নামছে, জলের শব্দে এবং সবুজ পাহাড় দেখে মন একদম ভরে গিয়েছিল। তার পর গেলাম শিলং উঁচু পিক , সেই জায়গা থেকে পুরো শহর দেখলাম। মেঘ এসে ঢেকে দিচ্ছে আবার কিছুক্ষণ পরে সরে যাচ্ছে। দারুন লাগল।
দ্বিতীয় দিন গেলাম চেরাপুঞ্জি, প্রথম গেলাম নোয়াখালী ফলস, তার পর গেলাম মাওসমাই গুহা, তার পর গেলাম সেভেন সিস্টার্স ফলস , খুব সুন্দর আবহাওয়া।শীতল বাতাস গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।
তৃতীয় দিন গেলাম ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ ।
সকাল ৮ টা থেকে ট্রেকিং শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা আর শেষ হয় না।
তাঁর পর কিছুটা হাঁটার পর একটু বিশ্রাম করলাম তারপর আবার হাঁটতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর দেখলাম সিংঙ্গেল লিভিং রুট ব্রিজ।
এত সুন্দর জায়গা দেখে মন একদম জুড়ে গেলো।
তাঁর পর আবার হাঁটতে শুরু করলাম প্রায় দুই তিন ঘন্টা হাঁটার পর পৌঁছালাম আসল জায়গায়। হাজার হাজার বছরের পুরনো গাছের শিকড় দিয়ে তৈরী যার নাম ডাবল ডেকার রুট ব্রিজ। প্রকৃতির এক অদ্ভুত অনুভূতি যা নিজের চোখে দেখে ও অবাক লাগছে ।
নিচে দিয়ে যাচ্ছে ঝর্নার জল আর উপরে গাছের শিকড়ের
সেতুদিয়ে মানুষ হেঁটে যাচ্ছে
আর এটাই শেষ নয় আর শিকড় গুলো এত মোটা আর শক্ত যে এক সঙ্গে অনেক লোক পার হতে পারবে। তাঁর পর আবার শুরু করলাম হাঁটা। কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর গিয়ে পৌঁছালম ব্লো লেগুন ওয়াটার ফলস। নীল জল দেখে আমি একদম অবাক।ভাবছি আমি কি বিদেশে আছি । নীল জল দেখে মন প্রাণ ভরে উপভোগ করলাম। আমার আর কিছু বলার ভাষা নেই প্রকৃতি এত সুন্দর।
আবার শুরু করলাম হাঁটা রং ধনু ঝর্না দেখার উদ্দেশ্যে।
শেষ পর্যন্ত পৌঁছালাম রং ধনু ঝর্না, প্রকৃতির সাতটি রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ঝর্নার জল বইছে।
এই দৃশ্য দেখে আমি একদম মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ওইখান থেকে আসার মন চাইছিল না কিন্তু আসতে তো হবেই। রাস্তা ছিল খুবই খারাপ সিঁড়ি ভাঙ্গা নিচে নামা ছিল খুবই কঠিন। পাহাড় থেকে নিচে নামতে আমাদের রাএ আট টা বেজে গিয়েছিল।এই ট্রেকিং টা জীবনে এক বার হলেও করা উচিত সবার।
চতুর্থ দিন গেলাম ডাউকি উমংগট নদীতে। উমংগট নদীর জল এতই সচ্ছ যে নৌকা যেন হাওয়ায় ভাসছে।
ওই খানের মানুষরা বলেন যে " বর্ষায় নাকি ঘোলা জল হয়ে যায়। কিন্তু শীতের সময় জলের তলায় পাথর ও গুনা যায়। নৌকায় বসে বাংলাদেশের পাহাড় দেখছিলাম, ওপারে সীমান্ত,এপারে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়ের দৃশ্য।এ যেন জল নয় কাঁচের ব্রিজ।
পঞ্চম দিন গেলাম এশিয়ার সবচেয়ে পরিস্কার গ্ৰাম মাওলিনং। ওখানে গিয়ে দেখলাম রাস্তায় এক টুকরো কাগজ ও নেই। প্রতিটি বাড়ির সামনে একটা করে বাঁশের ডাস্টবিন ছিল। পুরোটা গ্ৰামে ছিল গাছপালা ও ফুলের বাগান।এত সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মন একদম ভরে গিয়েছিল।
তাঁর পর এলো শেষ দিন।
শেষ দিনটা যেন আসলে শেষ না। দূর মেঘে ঢাকা পাহাড় আর সামনে রাস্তার সাইনবোর্ডে লেখা ---- "Thank you visit again"
(সৃজা সাহা, নবম শ্রেণি, ভবনস্ এিপুরা বিদ্যা মন্দির)
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...