পুরভোটের মধ্য দিয়েই মথা সমতলের বিধানসভায় ঢুকবে

সমর চক্রবর্তী

November 3, 2026   

পুরভোটের মধ্য দিয়েই মথা সমতলের বিধানসভায় ঢুকবে

অবশেষে আসন্ন পুরভোটের মধ্য দিয়ে এবারই প্রথম ত্রিপুরায় ইন্ডিয়া এবং এনডিএ জোটের সঠিক ভোট রাজনীতির লড়াই হতে চলেছে।এর আগে ত্রিপুরায় যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, দেখা গেছে-ইন্ডিয়া জোট বা এনডিএ জোট দিল্লীতে একজায়গায় বা এক অবস্হানে  থাকলেও রাজ্যে এসে দলগুলো আবার স্হানীয়ভাবে সেভাবে জোট না করে ভোটে লড়াই দিয়েছে।
যেমন কংগ্রেস ও সিপিএম ২০২৩ বিধানসভায় জোট বা সিট শেয়ারিং করে লড়াই দেবার পরে আর কোন ভোটেই এই দুই দল এক হয়ে লড়াই করেনি। পাশাপাশি এনডিএ জোটে থেকেও তিপ্রামথা দল এডিসি ভোটে বিজেপির সাথে জোট করে লড়াই করেনি।এমন কি ২০২৩ বিধানসভা ভোটেও সরাসরি বিজেপির সাথে কোন জোট করে লড়াই করেনি। কংগ্রেস ও সিপিএম সাম্প্রতিক ভিলেজ ভোটেও জোট করেনি।আবার ভিলেজ ভোটে তিপ্রামথা ও বিজেপি জোট করে লড়াই করেছে।
অর্থাৎ ত্রিপুরায় ইন্ডিয়া বা এনডিএ গোষ্ঠীর জোটের প্রক্রিয়াটির মূলতঃ কোন স্হিরতা নেই।একেক সময় একেক রকম পরিস্হিতির উপর ভর করে এই দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী রাজনীতির ময়দানে দৌড়ঝাঁপ করছেন।
তবে এবারই প্রথম ত্রিপুরায় সমতলের ভোটে এসে সরাসরি জোটে থেকে লড়াই দিতে এগিয়ে এল এনডিএ'র শরীক তিপ্রামথা দল।জানা গেছে মথা ও বিজেপি এবার পুরভোটে জোট করে লড়াই দিতে যাচ্ছে।রাজ্য রাজধানী আগরতলা শহরে নিগম ভোটে এবং রাজ্যের কয়েকটি পুর ও নগর ভোটে মথা বিজেপির সাথে জোট করে লড়াইয়ে নামছে। পাশাপাশি কংগ্রেস ও সিপিএম দলও পুরভোটে জোটবদ্ধ হয়ে 
লড়াইয়ে নামছে। অর্থাৎ সঠিক অর্থে দীর্ঘদিন পরে বলা যেতে পারে যে ইন্ডিয়া ও এনডিএর লড়াই হতে যাচ্ছে এবারকার পুরভোটের মধ্য দিয়ে।
সম্ভবতঃ ২০২৮ এর বিধানসভা ভোটের আগাম জোটবদ্ধের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল একটি লক্ষ্যে এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।তবে মথা প্রথমবারের মতো শহর ভোটে জোটে থেকে লড়াই দিলে,আগামীদিন কিন্তু মথা এই বিজেপির কাছে শহরের এক দুটি বিধানসভার আসন যে চাইবেনা- বিষয়টা কিন্তু এমন নয়।তাই মথা অত্যন্ত দারুণ একটা সুচিন্তিত সূক্ষ্ম ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি খাটিয়ে বিজেপির সাথে পুরভোটের দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ মথা ধীরে ধীরে পাহাড়ের সাথে সাথে সমতলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। আগামী বিধানসভা ভোটে পাহাড়ে ৩/৪ টি আসন মথা বিজেপিকে ছেড়ে অবশ্যই সমতলের ৪/৫ টি বিধানসভার আসন জোট শরীক হিসেবে চাইতেও পারে।আসন্ন পুরভোটে মথা  কিন্তু একটা লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে বিজেপির সাথে।এটা ভবিষ্যতে বিজেপির জন্য কতটা রাজনৈতিক সুবিধা বা অসুবিধা করবে- তা ভবিষ্যতই বলবে।তবে,এই মুহূর্তে বিজেপি-মথা জোট হলে আসন্ন পুর ভোটে যে এনডিএ জোট অনেকটাই এগিয়ে থাকছে এতে কোন সন্দেহ নেই।কারণ- অভিজ্ঞতার নীরিখেই লক্ষ্য করা গেছে- আনারস আর পদ্ম একজায়গায় থেকে লড়াই দিলে একশ'তে একশ সফলতা এসেছে। 
বিজেপি দল ও সরকারের কিছু কিছু বিষয়ে শহরবাসীর মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ আছে- এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই ক্ষোভের পক্ষে বিরোধী দলগুলোর কাছে লড়াই দেবার মতো বিশেষ কোন যুবশক্তি তাদের মজুতে নেই।জেন-জে যুবশক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আছে, কিন্তু তাই বলে এই যুব শক্তি  সিপিএম বা কংগ্রেসের পাশে তেমনভাবে নেই। এখানেই ক্ষমতাসীন বিজেপির একটা প্লাস পয়েন্ট। সিপিএম দল মূলতঃ এখনো নির্ভরশীল সেই সত্তরের দশকের যুবক বা বর্তমানের ৫০ থেকে ৭০ বয়সের মানুষদের উপর।এনিয়ে বুদ্ধি উৎপন্ন করা যায়,বিবৃতি দেয়া যায়, এমনকি ঘন ঘন প্রেস কনফারেন্সও করা যায়। কিন্তু মাটিতে লড়াই চালানো যায়না। আর এ রাজ্যের কংগ্রেস আছে এখনো সেই কংগ্রেসেই।সুদীপ রায় বর্মনের মুখটা ছাড়া রাজ্যে সত্যি অর্থে কংগ্রেস কোথায়?একমাত্র বীরজিৎ সিনহা তার গড়ে একটা মজবুত অবস্হান ধরে রেখে  কংগ্রেস দলটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এই অবস্হায় কংগ্রেস ও সিপিএম জোট বা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মথা ও বিজেপির জোটের সাথে কতটুকু কি করতে পারবে- বলা শক্ত।দিল্লীর রামলীলা ময়দান দেখে  ত্রিপুরা চ্যাপ্টারের ইন্ডিয়া জোট উৎসাহিত অবশ্যই হতে পারে।তবে,গত ৩১শে অক্টোবর এনডিএ জোটের প্রধান শরীক রাজ্য বিজেপি পদযাত্রার যে জনজোয়ার ও জোশ্ দেখিয়েছে- এতে আসন্ন পুর ভোট যে কোন দিকে ধাবিত হতে যাচ্ছে- তার কিছুটা আঁচ কিন্তু ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের মত।তবে- ভোট বলে কথা।শেষকথা ভোটাররাই বলবে।

   

(Tripurainfo)

more articles...