পুরভোট : সিপিএম- কংগ্রেস জোট হলে চ্যালেঞ্জে পড়বে বিজেপি
সমর চক্রবর্তী
September 24, 2026
২৮ সেপ্টেম্বর পাহাড়ে ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির ভোট।ইতিমধ্যে একপ্রস্থ লেজেগোবরে অবস্হা হয়েছে ক্ষমতাসীন দল গেরুয়া শিবিরের এডিসি ভোট ফলাফলকে কেন্দ্র করে।২৮ টি আসনে ৪ আসনের কৃতিত্ব।ক্ষমতায় থেকে এমন শোচনীয় ফলাফল এর আগে কোন মন্ত্রীসভার আমলে আর হয়নি।ঠিক এই সময়টাতেই ত্রিপুরা বিজেপির রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব বর্তেছে যুব বিধায়ক অভিষেক দেব রায়ের হাতে।সে যাই হোক-সম্প্রতি এডিসি ভোটের বিপর্যয়ের পরে ভিলেজ কমিটির ভোটে মথার সাথে জোটে যাওয়ায় গেরুয়া শিবিরে অনেকটাই স্বস্তি থাকার কথা।তবে উল্লসিত হবার বিশেষ কিছু থাকার কথা নয় অন্ততঃ আসন ভাগাভাগির অঙ্কের সংখ্যার দিক থেকে।
তবে ত্রিপুরার সমতলের অধিবাসীদের কাছে ভিলেজ ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। বরং সকলেই বেশী করে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষমান নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের রাজ্য পুরভোটের বিষয় নিয়ে।
তবে এ বছরেই নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসে যে পুরভোট হবার কথা রয়েছে- তাকে নিয়ে শুধু মাথা ঘামানো নয়,রীতিমতো একটি বিধানসভা ভোটের যে গুরুত্ব,সেরকম ভাবেই কিন্তু এবার রাজ্য বিজেপিকে এবং অবশ্যই বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেস দলকেও মন দিয়ে লড়াইতে নামতে হবে এই পুর ভোটে। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ত্রিপুরায় ১টি পুর নিগম,১৩ টি পুরসভা এবং ৬টি নগর পঞ্চায়েতের মোট ২০ টি পুর সংস্হার ভোট হয়েছিল।
ঐসময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিপ্লব কুমার দেব।পুর নিগম-পুরসভা এবং নগর পঞ্চায়েত মিলিয়ে মোট আসন রয়েছে ৩৩৪ টি।এরমাঝে একুশের ভোটে বিজেপি একাই ৩২৯ টি আসন দখল করে। সিপিএম ৩ টি, তৃণমূল কংগ্রেস ১ টি, এবং তিপ্রামথা ১টি আসন দখল করে।বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল ৫৯,০১ শতাংশ।তৃণমূল ১৬,৬৮ শতাংশ,বামেরা ১৮,১৩ শতাংশ, কংগ্রেস ২,০৭ শতাংশ ভোট পায়।
রাজ্যের মোট ২০টি পুর সংস্হাই ছিল বিজেপি দলের দখলে। ঐ বৎসর বেশ কিছু পুরসভার ভোট নিয়ে বিরোধী দল থেকে ব্যাপক রিগিং ও ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেবার বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল।
এ বছরের( ২০২৬) নভেম্বর/ডিসেম্বর মাসে ভোট হলে, হাতে তাহলে সময় মাত্র ৩ মাস।এই ৩ মাসে ক্ষমতাসীন দল কতখানি প্রস্তুত এবারের পুরভোট মোকাবেলায় তা সময়ই বলবে।তবে পাহাড়ে যেমন বিজেপি একটি দুর্বল শক্তি হয়ে পড়েছে,সেখানে সমতলে যদি বিজেপি একটি প্রবল শক্তি হিসেবে এই পুরভোটে না দেখাতে পারে- তাহলে ২০২৮ বিধানসভা ভোটে কিন্তু অশনি সংকেত ডেকে আনতে পারে। আর এবারেই একটা ভালো সুযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি দলকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে ফেলে দিতে উদ্যোগ নেবার ক্ষেত্রে সিপিএম ও কংগ্রেস দলকেও।কারণ- বিগত কয়েকমাস যাবত রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দল অনেকটাই বিভিন্ন ইস্যুতে কোনঠাসা অবস্হায় রয়েছে।একদিকে ব্যাপকহারে বাজারে মূল্য বৃদ্ধির যন্ত্রণা।অপরদিকে গত দুই তিনমাস যাবত গোটা রাজ্য জুড়ে বেহাল সড়ক ব্যবস্হা, বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের তালবাহনা ও ব্যাপক ব্যর্থতা,ডিজিপি ধ্যানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি ঝুলে থাকা,রেশনে চিনির যোগানের ব্যার্থতা,শহরের প্রতিটি পুরসভায় পানীয় জলের সমস্যা,সর্বোপরি রাজ্যে নেশার বাড়াবাড়ি।এর চাইতেও বড় যে ইস্যুটি এবার বিরোধীদের কাছে তুরুপের তাস হতে যাচ্ছে, সেটি হল-বিজেপির নিজ দলের একটা বড় অংশের ভোটার ও সমর্থকেরা এবার অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। ভোট বাক্সে একটা নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারে এইসব বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী।
২০২১ সালের পুরভোটে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে বিজেপি দল যে অসাধারণ পুর ফলাফল করে দেখিয়েছিল- তা যদি এবার ২০২৬ এর পুরভোটে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে করা না যায়,তাহলে কিন্তু অনেক প্রশ্নের মুখে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পড়তে হতে পারে।মনে রাখতে হবে ২০২১ সালের পুর ভোট বিশেষতঃ আগরতলা পুর নিগম ভোটে কিন্তু দারুণভাবে জ্বালিয়েছিল মমতা ব্যানার্জির এই তৃণমূল দল। হঠাৎ করে ত্রিপুরায় এসে এই আগরতলা পুর নিগম ভোটে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট টেনে নিয়েছিল মমতার তৃণমূল দল।
ইতিমধ্যে সেই তৃণমূল এখন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকেই হাওয়া।ফলে এবার ত্রিপুরায় তারা আর বেগ দিতে আসছেনা।সেইদিক থেকে এটা রাজ্য বিজেপির একটা প্লাস পয়েন্ট।এমতাবস্থায় রাজ্য বিজেপি সামনের পুর ভোটে ভালো ফল করতে না পারলে ব্যাপক সমালোচনাই নয়,ভবিষ্যতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে রাজ্য বিজেপি দল ও স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে।যেহেতু দল এবং সরকারের তরফ থেকে দাবী করা হচ্ছে- রাজ্যে উন্নয়ন ও সুশাসন চলেছে পাশাপাশি।সেখানে পুর ভোটে নির্দিধায় ব্যপক সফলতা পাবারই কথা।
ইতিমধ্যে রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী আবার সিপিএমের ১০ টি বিধানসভার আসন এবার নিয়ে আসার জন্য ডাক দিয়েছেন।এতে জীতেনবাবু থেকে মানিক সরকাররা ক্ষেপে গেছেন। এবং ইতিমধ্যে রাজ্যের সর্বত্র সিপিএম দল তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি বাড়িয়ে দিয়েছেন। কংগ্রেস দলও বসে নেই। সাম্প্রতিক ধর্মনগর শহর কেন্দ্রের বিধানসভার উপভোটে কংগ্রেস তার শক্তি অনেকটাই দেখাতে পেরেছেন।আসন্ন পুরভোটে কংগ্রেস - সিপিএম জোট বেঁধে লড়াইতে নামলে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে দারুণ টক্কর দিতে পারবে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের মত।
তবে এবারকার পুরভোট মূলতঃ ক্ষমতাসীন সরকার ও তার দল এবং রাজ্যের বিরোধী দলগুলোর কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।বিজেপির দায়-বিগত পুরভোটের সাফল্যকে ধরে রাখার দায়বদ্ধতা।আর বিরোধী সিপিএম - কংগ্রেসকে পুরভোটে সফলতা এনে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে টক্কর দেবার জানান দেবার দায় থাকছে।
(Tripurainfo)
more articles...