নেতাজীকে নিয়ে ভারতে প্রথম দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যে ভরপুর "দেশনায়ক পার্ক"-গড়ে উঠল শহর ধর্মনগরে

সমর চক্রবর্তী

October 4, 2026   

নেতাজীকে নিয়ে ভারতে প্রথম দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যে ভরপুর
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য ও আপোসহীন কালজয়ী দেশনায়ক ছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।তার জীবন সংগ্রাম ও আদর্শ এক অনন্য নির্ভীক বীরত্বের সমসাময়িক যুগের জন্যই নয়, বরং আজকের প্রজন্মের কাছেও তার দেশপ্রেম,ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনী এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
নেতাজীকে নিয়ে কোন আলোচনা বা কিছু লেখার জন্য এই দেশ নায়কের বীরত্বের কাহিনীর অবতারণা করার জন্য আজকের এই কলম ধরা নয়। বরং এই বিষয়ের বাইরে গিয়ে আজ আমরা এমন এক চমকপ্রদ একটি কাহিনীর অবতারণা করবো- যা অদ্যাবধি উত্তরপূর্ব ভারত তো বটেই গোটা ভারতের কোথাও অদ্যাবধি এই দেশ নায়ক নেতাজীকে নিয়ে এমন একটি "দেশনায়ক পার্ক" বা নেতাজী স্মৃতিসৌধ পার্ক গড়ে তুলে গোটা ভারতে এক নতুন ইতিহাস গড়ে তুলেছে ত্রিপুরার প্রান্তিক শহর- শহর ধর্মনগর।
নেতাজীর জন্ম থেকে তার স্কুল-কলেজ- রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম থেকে দেশ বিদেশের যাত্রা থেকে আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন থেকে  জীবনের একেবারে অন্তিম লগ্নের প্ল্যান ক্রেসের(যদিও বিতর্কিত) ঘটনাবহুল জীবনকে ১২ টি কংক্রিটের বড় বড় পাকা গ্র্যানাইড পাথরে খোদাই করে ফাইবার ও ক্যামিকেল যুক্ত করে  এক কানি জায়গা জুড়ে একটি বিশাল ফ্রেমে নেতাজীর জীবন সংগ্রামকে  অত্যন্ত নান্দনিক ও অপূর্ব ভাস্কর্য সম্ভারে সমৃদ্ধ ও দৃষ্টিনন্দন চিন্তা চেতনা ও ভাবের মধ্য দিয়ে এক ভাস্কর্য রাশির বার্তার মধ্য দিয়ে নেতাজীকে একেবারে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত রূপ দিয়েছেন ভাস্কর্য শিল্পী ত্রিপুরা  আর্ট কলেজের ছাত্র শিল্পী সুরজ ঘোষ। শিল্পী সুরজ অবশ্য এই ভাস্কর্য রাশি গড়ে তোলার পেছনে  তার নিজের পরিশ্রমের চাইতেও নিজের জীবন সঙ্গিনী- ভাস্কর্য শিল্পী শিলা সূত্রধরের পরিশ্রম ও তার একাগ্রতার কাজকেই বেশী এগিয়ে রাখতে চাইছেন এ ব্যাপারে।
শিল্পী সুরজ ধর্মনগরের ভূমিপুত্র হলেও তার মূল ওয়ার্কশপ বা স্টুডিও মূলতঃ আগরতলার পটুনগরে অবস্হিত।"দেবী ভিনটেজ ফ্রেম"এই নামাঙ্কিত স্টুডিওর কর্মকর্তা বছর ৩৫ এর যুবক ভাস্কর সুরজ ঘোষ জানান-ধর্মনগর শহরে নেতাজীকে নিয়ে যে "দেশনায়ক পার্ক"টি গড়ে উঠেছে -নেতাজীকে নিয়ে এমন পার্ক দেশের কোন রাজ্যেই নেই।উড়িষ্যার কটকে এবং কোলকাতাতে এই দুই জায়গায় নেতাজীকে নিয়ে ছোটখাট বা তার ব্যবহারিক জিনিসপত্র সংরক্ষণ নিয়ে কিছু থাকলেও আমরা ধর্মনগরে এই নেতাজী পার্কে পাথরে খোদাই করে নেতাজীর গোটা জীবনকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে- তা এখন অবধি ভারতের আর কোথাও এভাবে গড়ে উঠেনি।সেদিক থেকে এই দেশনায়ক পার্কটি একটি হেরিটেজ পার্ক হিসেবে উত্তরপূর্ব ভারতের গর্ব ও একটি চিত্তাকর্ষক পার্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।শিল্পী সুরজের দাবী- সকল চিত্রগুলো সবুজ রঙের ফাইবার ও বিভিন্ন ক্যামিক্যাল দিয়ে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে আগামী ১০০ বৎসরেও কোন একটি ভাস্কর্যের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না রোদ- বৃষ্টি- ঝড়- জল।এমন কি একটি হাতুরী দিয়ে বাড়ি দিয়েও বিন্দুমাত্র ফাটল ধরাতে পারবেনা একটি ম্যুরালেরও।
এই পার্কের একেবারে প্রবেশদ্বারটিও দারুন চমকপ্রদ হয়ে উঠেছে।দুই ধারে দুই সিংহের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে ১২ ফুটের দেশনায়ক নেতাজীর একটি পূর্ণাবয়ব এক ফাইবারের মূর্তি।এই মূর্তিটির মাঝেও একটা ব্যতিক্রমী চিন্তাধারা আনা হয়েছে।গোটা দেশে যেখানেই নেতাজীর মূর্তি বসানো আছে, দেখা যায়, সেখানেই আমরা লক্ষ করি- ঘোড়ার পিঠে তলোয়ার হাতে নেতাজী।
কিন্তু এই পার্কের প্রবেশদ্বারে যে নেতাজীকে আমরা দেখতে পাবো- তিনি একেবারে ধূতি- পাঞ্জাবী পড়া একেবারে সৌম্য দর্শন তেজদীপ্ত  বাঙালী ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন এক বীর পুরুষ।
এই পার্কের ঠিক মধ্যিখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ১০০ ফুট উঁচুর জাতীয় পতাকার একটি স্ট্যান্ড।যা দেশনায়কের স্বপ্নের ভারতের প্রতীক। খুব শীঘ্রই এই পার্কটি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে খুলে দেয়া হবে।
তবে যে মানুষটির স্বপ্ন ও পরিকল্পনায় শহর ধর্মনগরের বুকে এই ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক পার্কটি আজ গড়ে উঠতে পেরেছে- তিনি প্রয়াত জননেতা বিশ্ব বন্ধু সেনের অবদান এক্ষেত্রে অনস্বীকার্য।এরসাথে তৎকালীন পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন প্রদ্যোৎ দে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে আজ এই ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধটি ত্রিপুরার গৌরবের পালকে গেঁথে থাকতে পারল-বলা যায়।
এই পার্কটি গড়ে উঠতে ইতিমধ্যে ১ কোটি টাকার উপরে খরচ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পুর পরিষদের ইঞ্জিনীয়ার দীপঙ্কর গুপ্ত। ধর্মনগর পুর পরিষদের আর্থিক সহায়তায় গড়ে ওঠা এই পার্কটিতে ইঞ্জিনীয়ার দীপঙ্কর গুপ্তের একাগ্র নজরদারীতেও কাজের মান যথেষ্ট উন্নতমানের দিকেই গড়ে উঠতে পেরেছে বলা যায়।এই মুহূর্তে গোটা পার্কটি জনসাধারণের চক্ষুর অন্তরালে ঢাকা অবস্হায় রাখা হয়েছে। জানা গেছে-খুব শীঘ্রই এটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তার সূচনা করে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে খুলে দেয়া হবে।ইতিমধ্যে এখনই বাইরে থেকে কেউ শহর ধর্মনগরে এলেই এই দেশনায়ক পার্কের ছবি বাইরে থেকে যেটুকু দেখা যায়- তার ছবি মোবাইল বন্দী করার উদগ্রীব হতে দেখা যাচ্ছে সকলকে। 
   

(Tripurainfo)

more articles...