প্রদ্যোতের অনুপস্থিতিতে পাহাড় রাজনীতি কোন পথে?
সমর চক্রবর্তী
October 11, 2026
গ্রাম থেকে শহর- ত্রিপুরার সর্বত্র এখন উৎসবের আবহ এসে গেছে।এই সময়টাতে আর যাই হোক-কোন ধরণের রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা,কোন রাজনৈতিক লাভালাভ বা কেউ কাউর বিরুদ্ধে কোন ধরণের দ্বেষ- বিদ্বেষের ভাবনা চিন্তার মাঝে থাকতে চায়না।দুর্গা পুজা শুধুমাত্র একটি পুজা পর্ব নয়-এটা সকলের মিলন ও সৌহার্দ্য আত্মার প্রতীক।
কিন্তু ঠিক এই সময়টাতেই ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতির একেবারে যিনি মধ্যমনি এবং ত্রিপুরার পাহাড় অঞ্চলের যিনি মুকুটহীন সম্রাট- প্রদ্যোৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মণ তিনি বলা যায় আচমকাই রাজনীতির সকল পাট চুকিয়ে দিতে চাইছেন।তিনি জানিয়েছেন-তার শারীরিক সমস্যা রয়েছে।তাছাড়া তিনি মনে করেন- তিপ্রাসাদের অধিকার আদায়ের জন্য যতটুকু লড়াই করার তিনি তা আপাতত করেছেন। ভবিষ্যতে যদি বিশেষ প্রয়োজন পড়ে তিনি নিশ্চয়ই তিপ্রাসাদের পাশে থাকবেন। কিন্তু আপাতত তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চান।
প্রশ্ন এখন অনেক-কেন তিনি এই সিদ্ধান্তে যেতে চাইছেন।তিনি এ রাজ্যের পাহাড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যাক্তিত্ব। এবং ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতির বলা যায় এই মুহূর্তে এক অঘোষিত চালিকা শক্তি।পাহাড়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ জনজাতি মানুষের তিনি নয়নের মনি।
এহেন একজন ব্যাক্তিত্ব রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পেছনে শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যাই একমাত্র কারণ?
নাকি- এর পেছনে অন্য কোন কারণ থাকতে পারে,যে জায়গাটুকুতে আর বেশী এগোনো সম্ভব নয়! অস্বীকার করার কোন পথ নেই -এ রাজ্যে দশরথ দেবের পরে আর কোন জনজাতি নেতা এত জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর আগে উঠে আসেনি। মাত্র ৭/৮ বৎসরের মধ্যে একটি মানুষ পাহাড়ের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক ক্ষমতার উৎস্য- এডিসি প্রশাসন দিয়েছেন। দু- দুবার একনাগারে এডিসির ক্ষমতা পাহাড়বাসীর হাতে তুলে দিয়েছেন। ২০ টি উপজাতি সংরক্ষিত বিধানসভার আসন থেকে ১৩ জন বিধায়ককে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। এরমাঝে দুজনকে আবার জোটের মন্ত্রীসভায় ঢুকিয়েছেন। সংরক্ষিত আসন থেকে রাজ্য থেকে একজন নিজেদের মানুষকে লোকসভার সদস্য করেছেন।ত্রিপুরার রাজনীতির ইতিহাসে এ এক অভূতপূর্ব স্মরণীয় সাফল্য।তিনি রাজা হয়েও কখনো রাজ্যভার নেননি।বরাবর কিং মেকারই থেকে গেছেন।তার মতো সাফল্য বামেদের রাজত্বেও কোন জনজাতি নেতা করে দেখাতে পারেননি।
সর্বশেষে আরো বেশী সাফল্য এনে দিয়ে গেলেন তিপ্রাসাদের জন্য,সেটি ভিলেজ কমিটিতে সরাসরি পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষমতা।৫৮৭ টি ভিলেজের মধ্যে প্রায় সাড়ে চারশ' এর উপর ভিলেজ পরিচালনার দখলদারী। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে সুপ্রীম কোর্টে মামলা লড়ে ভিলেজ ভোটের বিষয়টি আদায় যেমন করিয়েছেন,তেমনি অভূতপূর্ব ফলাফলও তিপ্রাসাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এহেন চূড়ান্ত সফলকারী মানুষটি হঠাৎ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে সরে যেতে চাইছেন কেন? সামনেই তো চুক্তি মতো বা কথামতো ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিষয় নিয়ে কেন্দ্র - রাজ্য এবং মথা দলের সাথে তিপ্রাসাদের সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই নিয়ে আলোচনার কথা।ঠিক এই সময়ে কেন তিনি দূরে থাকতে চাইছেন?
একটি মহলের মত- ভারতীয় গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোতে থেকে পাহাড়ের অধিকারে যা যা করা যায় বা কেন্দ্রের তরফ থেকে দেয়া যায়- সেটা হয়তো পাওয়া যাবে।আবার হয়তো এমন কিছু বিষয় আছে যা,এই কাঠামোতে থেকে সার্বিক রাজ্য ও দেশের সিস্টেমের মধ্যে অনেক দাবী আছে,যা পূরণে অনেকটা সমস্যা আছে- যা পাওয়া অনেকটা কঠিন।এটা বুবাগ্রা হয়তো বুঝতে পারছেন। কিন্তু দলের মধ্যে এ নিয়ে বিশেষ আলোচনায় আনাটাও একধরণের অসুবিধা রয়েছে।আবার অন্য একটা মত হল- বুবাগ্রার অনুপস্হিতিতে দল এবং প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কিভাবে ধরে রাখতে পারছে বর্তমানের পাহাড় নেতারা-সেটা পরখ করার প্রয়োজনেও প্রদ্যোৎ কিশোর একটু দূরে থাকতে চাইছেন।তাছাড়া এই মুহূর্তে পাহাড় বাসীর সামনে তেমন কোন চ্যালেঞ্জিং ভোটের বিষয় নেই।সামনে পাহাড় বাসীর কাছে আসল ভোট পরীক্ষা আর ২০২৮ সালে।তাই এ সময়টাতে মহারাজা প্রদ্যোৎ কিশোর মানিক্য ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতি থেকে একটু দূরেই থাকতে চাইছেন বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের মত।
(Tripurainfo)
more articles...